
অপটিমা পেট কেয়ারের ডা. মো. তৌফিক ই এলাহী বলেন, শীতকালে কুকুর ও বিড়ালের মধ্যে ক্যাট ফ্লু বা ফেলাইন আপার রেসপিরেটরি ইনফেকশন, কেনেল কফ, প্যারভো ভাইরাস ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, আর্থ্রাইটিস বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস, হাইপোথার্মিয়া এবং শীতকালীন ডার্মাটাইটিস বা ত্বকের শুষ্কতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শীতের আগেই পোষা প্রাণীর থাকার জায়গা প্রস্তুত করে রাখা ভালো বলে জানান তিনি।
ছোট জাতের বা কম পশমযুক্ত কুকুর-বিড়ালের জন্য শীতকালীন জ্যাকেট কিংবা সোয়েটারও প্রস্তুত রাখা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে ঘর উষ্ণ রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করা যায়।
শীত আসার আগেই পোষা প্রাণীকে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন ডা. তৌফিক ই এলাহী। তার মতে, ফ্লু ও কেনেল কফের মতো রোগের টিকা আপডেট আছে কি না, সেটিও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিশ্চিত করা উচিত।
পোষা প্রাণীর শরীর বা আচরণে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। ডা. মো. তৌফিক ই এলাহী ডিভিএম উত্তরা সেক্টর ৬-এর অপটিমা পেট কেয়ারে চিকিৎসাসেবা দেন।
শীতকালে পোষা প্রাণীর খাবারের দিকেও বাড়তি নজর দিতে হবে। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফ্যাট রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. তৌফিক ই এলাহী। তবে প্রাণীর বয়স, জাত, ওজন ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
এ ছাড়া সবসময় পরিষ্কার পানি পানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শীতের সময় পানি খুব ঠান্ডা হয়ে গেলে তা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া যেতে পারে।
শীতকালে পোষা প্রাণীর ত্বক ও পায়ের যত্নের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে মার্কিন প্রাণীকল্যাণ সংস্থা এএসপিসিএর এক প্রতিবেদনে শীতের ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় পোষা প্রাণীর ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোষা প্রাণীর পা পরিষ্কার ও শুকনো করে দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশের দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনেও শীতকালে পোষা ও পথপ্রাণীর জন্য উষ্ণ ও শুকনো জায়গা নিশ্চিত করা এবং ঠান্ডা মেঝে থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শীত আসার আগেই পোষা প্রাণীর থাকার জায়গা, খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় টিকার বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া গেলে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমানো সহজ হতে পারে। আর কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।