

জাপানের আধুনিক নগরজীবন দেখতে চাইলে টোকিও হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। উঁচু ভবন, ব্যস্ত শপিং এলাকা, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার পাশাপাশি এখানে বিনোদনেরও নানা সুযোগ রয়েছে।

জাপানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে কিয়োটো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। একসময় জাপানের রাজধানী থাকা এই শহরে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন মন্দির, উপাসনালয়, ঐতিহাসিক রাস্তা ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা।

জাপানের সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক প্রতীকগুলোর একটি মাউন্ট ফুজি। দেশটির সর্বোচ্চ পর্বতটি বহু বছর ধরে শিল্পী, কবি ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। ফুজির আশপাশের ফুজি ফাইভ লেকস এলাকাতেও রয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য।

প্রাচীন জাপানের ইতিহাস ও সংস্কৃতির স্বাদ পেতে নারা যেতে পারেন। শহরটি ঐতিহাসিক মন্দির ও স্থাপনার জন্য পরিচিত। নারা পার্কে ঘুরে বেড়ানো হরিণও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এখানে রয়েছে তোদাইজি মন্দির, যেখানে জাপানের অন্যতম বৃহৎ ব্রোঞ্জ বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। প্রাচীন নারার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।

জাপানের প্রাণবন্ত শহুরে পরিবেশ ও খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে ওসাকা হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। কেনাকাটা, বিনোদন ও খাবারের জন্য পরিচিত এই শহরে রয়েছে ঐতিহাসিক ওসাকা ক্যাসেলও। ক্যাসেলের ওপরের পর্যবেক্ষণ এলাকা থেকে শহরের দৃশ্য দেখা যায়। কিয়োটো ও নারার সঙ্গে মিলিয়ে ওসাকা ভ্রমণ করাও পর্যটকদের জনপ্রিয় পরিকল্পনার একটি।

জাপানের ইতিহাস ও শান্তির বার্তা জানতে হিরোশিমা গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল শহরটির অতীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। এর পাশাপাশি ইৎসুকুশিমা শিন্তো মন্দিরও রয়েছে, যা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। ইতিহাসের পাশাপাশি হিরোশিমার দ্বীপ ও পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্যও ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।

প্রকৃতি ও খোলা পরিবেশ পছন্দ করলে জাপানের উত্তরের দ্বীপ হোক্কাইডো রাখতে পারেন ভ্রমণ তালিকায়। শীতকালে তুষার ও শীতকালীন নানা অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত এই অঞ্চল। আবার গ্রীষ্মে বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য, খাবার ও বাইরের বিভিন্ন কার্যক্রম উপভোগ করা যায়। হোক্কাইডোর বিভিন্ন অংশে বন্য প্রকৃতি ও জাতীয় উদ্যানও রয়েছে।

জাপানের অন্যরকম রূপ দেখতে চাইলে যেতে পারেন ওকিনাওয়া। দেশের দক্ষিণের এই দ্বীপাঞ্চলে রয়েছে উষ্ণ আবহাওয়া, সাদা বালুর সৈকত, স্বচ্ছ পানি ও ভিন্নধর্মী স্থানীয় সংস্কৃতি। রিউকিউ রাজ্যের ইতিহাসের সঙ্গেও ওকিনাওয়ার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতি ও সমুদ্রকেন্দ্রিক ভ্রমণের জন্য অঞ্চলটি জাপানের অন্য গন্তব্যগুলোর তুলনায় আলাদা অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
জাপানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোন জায়গা বেছে নেবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করে ভ্রমণের সময়, আগ্রহ ও পরিকল্পনার ওপর। ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য কিয়োটো-নারা, আধুনিক শহুরে অভিজ্ঞতার জন্য টোকিও-ওসাকা আর প্রকৃতি ও ভিন্ন পরিবেশের জন্য হোক্কাইডো, মাউন্ট ফুজি বা ওকিনাওয়া রাখা যেতে পারে তালিকায়।